চুঙ্গাপিঠাঃ শ্রমসাধ্য পিঠা, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী পিঠা

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী পিঠা।

সবচাইতে অবাক করা শ্রমসাধ্য পিঠা। ঢলুবাঁশ ছাড়া চুঙ্গাপিঠা তৈরি করা যায় না। ঢলুবাঁশে এক ধরনের তৈলাক্ত রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে, যা আগুনে বাঁশের চুঙ্গাকে না পোড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে আগুনে না পুড়েই ভেতরের পিঠা আপনাআপনি সিদ্ধ হয়। ঢলুবাঁশের চুঙ্গা দিয়ে ভিন্ন স্বাদের পিঠা তৈরি করা হয়।

কখনও কখনও চুঙ্গার ভেতরে বিন্নি চাল, দুধ, চিনি, নারিকেল ও চালের গুঁড়া দিয়ে পিঠা তৈরি করা হয়। পিঠা তৈরি হয়ে গেলে মোমবাতির মতো চুঙ্গা থেকে আলাদা হয়ে যায়। চুঙ্গা পিঠা পোড়াতে খড়ের প্রয়োজন হয়। কলাপাতায় মুড়িয়ে ভেজানো বিরন চাল ঢলুবাঁশের ভিতর ভরে মুখটা প্রথমে কলাপাতা ও পরে খড় দিয়ে শক্ত করে বন্ধ করে দিতে হয়। এরপর ইট দিয়ে দুই পাশে একটু উঁচু করে চাল ভর্তি বাঁশগুলো বিছানো হয়। নিচে ও উপরে খড় দিয়ে আগুন লাগিয়ে পোড়ানো হয়।

পোড়ানোর সময় বাঁশগুলো উল্টিয়ে দিতে হয় যাতে চারপাশের চাল সেদ্ধ হয়। আধাঘণ্টা থেকে পৌনে এক ঘণ্টা আগুনে পোড়ালে বাঁশের ভেতরের চাল সেদ্ধ হয়ে যায়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য একটা দুইটা চুঙ্গার মুখ খুলে দেখে নিতে পারেন চাল সেদ্ধ হয়েছে কিনা।

পিঠা বানিয়ে একলা খাবেন না। আমাদের জন্য পাঠাবেন।

Pigeonhole